কিভাবে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়

কিভাবে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয় এই নিয়ে আজকে আমরা জানব। ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট অনলাইনের অনেক বড় একটি সেক্টর। শেখার জন্য হোক বা অনলাইন থেকে উপার্জনের জন্য হোক। যে জন্যই আপনি ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপমেন্ট শিখতে চান না। কারণ প্রথম অবস্থায় আপনি যখন আপনি আসবেন বা প্রথম অবস্থায় যখন আপনার হবে মন চাইবে সেক্টর টিতে। আপনি যখন একটু কাজ শেখা শুরু করবেন। তখন আপনি এখানে দেখতে পাবেন যে এটা মূলত একটা নির্দিষ্ট কোনও বিষয় না। এখানে রয়েছে বিভিন্ন বিষয়। 

এখানে রয়েছে এইচটিএমএল, সিএসএস, জাভাস্ক্রিপ্ট, জেকোয়েরি, পিএইচপি, এসপি, ওয়ার্ডপ্রেস, জুমলা, দ্রুপাল, ম্যাজেন্টো ইত্যাদি। বিভিন্ন রকমের চুক্তি আপনারা পান। আপনি যখনই ফ্যাক্টরিতে আসেন কাজ করার উদ্দেশ্যে। আসার পরে যখন দেখেন এখানে বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। তখন আপনার মত একটা ঝামেলা সৃষ্টি হয়ে যায়। আপনি কোনটা শিখবেন। কোনটা দিয়ে কিভাবে কাজ করবেন। কোনটা আপনার জন্য ঠিক হবে।

এইযে সংকোচ আপনাদের মাঝে সৃষ্টি হয়। আপনি সিদ্বান্ত  নিতে পারেন না। এই বিষয়টা তো আপনাকে সাহায্য করার জন্য মূলত আজকের র্আটিকেল। আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব কিভাবে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়। কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে। কোনটা শিখলে কি করতে পারবেন। কোনটা দিয়ে একটি ওয়েবসাইটের কি অংশ করা হয়। এই বিষয়গুলো নিয়ে আমি আপনাদের সাথে কথা বলব। আশা করি এতে করে আপনাদের মধ্যকার প্রথম অবস্থায় ঝামেলা সৃষ্টি হয় সেগুলো দূর হয়ে যাবে।

তো চলুন শুরু করা যাক। প্রথমেই বলে নেয়া যাক একটি ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করা হয়। ওয়েবসাইট তৈরি করার বিষয়টি বুঝতে হলে, আমাদেরকে একটু চিন্তা করি। আমরা একটি বিল্ডিং কিভাবে তৈরি করা হয় আমরা সবাই দেখি। আশেপাশে অনেক বিল্ডিং আছে। এই বিল্ডিং কিভাবে তৈরি করা হয়। সেটা যদি আমায় ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করা বুঝে ফেলব। 

একটি বিল্ডিং এ কাজ করা হয়। একটি বিল্ডিং এর নকশা তৈরি করা হয়। যেটা কাগজে ইঞ্জিনিয়ার নকশা তৈরি করেন। তারা বিল্ডিংটার একটি নকশা তৈরি করেন। সেটা ফাইনাল করা হয়। তারপরে সেই বিল্ডিং এর নকশা অনুযায়ী গঠন তৈরি করা হয়। যেমন ইট, বালু, সিমেন্ট এ বিল্ডিং এর প্ল্যান তৈরি করা। গঠন সর্ম্পুন হয়ে যায় তখন সেটাতে বিভিন্ন দরজা-জানালা ইত্যাদি অন্যান্য কাজ গুলো করেছে। বিল্ডিংটাকে বসবাস উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়।

এমন একটি বিল্ডিং তোমার তিনটা ধাপ এ হয়ে থাকে। নকশা বা ছবি তৈরি করা, বিল্ডিং এর ২য় ধাপে বিল্ডিং এর গঠন তৈরি করা। সে বিল্ডিংটার বসবাস উপযোগী করে তোলার জন্য সেখানে একটা কিছু জিনিস যোগ করা। একসাথে আমাদের ওয়েবসাইট ডিজাইন অনেকটা এই রকম ভাবেই হয়ে থাকে। যখন কোন ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়ে থাকে সেই ওয়েবসাইট আর একটা ছবি তৈরি করা হয়। যে ওয়েবসাইটটা দেখতে কেমন হবে।

ধরেন আপনি আপনার স্কুলের জন্য একটা ওয়েবসাইট তৈরি করবেন। তো সেই ওয়েবসাইটের জন্য কি করা হবে? আপনি কাউকে দিবেন একটা ছবি তৈরি করবে। সেই ওয়েবসাইটের এই ছবিটাকে বলা হয় পিএসডি ফাইল। এই পিএসডি ফাইল দেখে আপনি সেটাই করবেন। যে আপনার স্কুল ওয়েবসাইট টা দেখতে কেমন হবে। আপনি যদি সেই পিএসডি ফাইল দেখে বলেন যে হ্যাঁ আমার ওয়েবসাইটে দেখতে এরকম হবেই। ছবিটা ঠিক আছে আমার ওয়েবসাইটের জন্য পারবে।

তখন ওয়েব ডিজাইন এই ছবিটা দেখে আপনার ওয়েবসাইটের গঠন তৈরি করা হবে। আপনার ওয়েবসাইট কে ডিজাইন করা হবে। এই অংশটা হচ্ছে ওয়েব ডিজাইনার এর কাজ। এটাকে স্ট্যাটিক ওয়েব ডিজাইন ও বলা হয়ে থাকে। এই অংশে আপনার সেই ছবিটা কে কোডের মাধ্যমে কোডিংয়ের কনভার্ট করা হবে। এই কনভার্শন হয়ে গেল আপনার ২য় ধাপ এবং ৩য় সর্বশ্রেষ্ঠ হচ্ছে ওয়েব ডেভলপমেন্ট।

আপনি কোডিং করে আপনার ওয়েবসাইটের কনভার্ট করা হয়েছে ছবি থেকে। যে করে কনভার্ট করা হয়েছে আপনার ওয়েবসাইটকে। সেই কনভার্ট করা ওয়েবসাইট ডাইনামিক করা হবে। এর  অর্থ হচ্ছে এই ওয়েবসাইট তো আর সারাজীবন এক থাকবে না। ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে পরির্বতন হবে। যেমন আপনি যদি আপনার স্কুলের জন্য ওয়েবসাইট করা এটা দেখেছেন। প্রতিদিন পরির্বতন হবে কতজন ছাত্র আসলো, কতজন গেল। এই ধরনের বিভিন্ন তথ্য আপনার স্কুলে প্রতিদিন আপডেট করতে হবে।

এখনই আপডেট যিনি ওয়েবসাইট তৈরি করেছেন, যিনি কোডিং করেছে তিনি করবেন না। এটা তো তার কাজ না। আপনি একটা দেখা গেছে আপনি কোন লোক দিয়ে করাবেন। অথবা আপনি নিজেই করবেন বাসায় বসে। এই যে আপনি ওয়েবসাইটে প্রতিদিন এডিট করবেন। এই এডিটিং এর কাজটা যদি করতে হয় তাহলে তো আপনাকে কোডিং জানতে হবে। কারণ যে কোড দিয়ে তৈরি করা হয় ওয়েবসাইট। আপনি যদি কোডিং না জানেন তাহলে তো আপনি এটা করতে পারবেন। ওয়েবসাইট এই এডিট টা যদি আপনি কোড না জেনেই বাসায় বসে করতে পারেন। এই জন্যই মূলত ওয়েবসাইট তাকে ডায়নামিক করা হয়ে থাকে।

ওয়েবসাইটকে শুধুমাত্র এই জন্য ডায়নামিক করা হয়ে থাকে। যাতে করে যে কেউ এই ওয়েবসাইট কোড না জেনেও এডিট করতে পারে। তার মানে বোঝা যাচ্ছে একটি ওয়েবসাইট মূলত তিনটি হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে ওয়েবসাইটের একটা ছবি তৈরি করা বা পিএসডি ফাইল তৈরি করা। ২য় ধাপে ওয়েবসাইটে ছবি দেখে দেখে কোডের মাধ্যমে কনভার্ট করে স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট তৈরি করা। যেটাকে বলা হয় ওয়েব ডিজাইন। ৩য়  হচ্ছে সেই স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট তাকে ডায়নামিক করা। যাতে করে যে কেউ এডিট করতে পারে কোড না জেনেই।

এই তিনটা ধাপ এর মাধ্যমে মূলত যেকোন ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়ে থাকে। যারা একদম প্রথমে কথা তারা হয়তো আশাকরি এতোটুকু বুঝতে পেরেছেন। যে তিনটা আলদা আলদা ধাপে একটা ওয়েবসাইট তৈরি করার। তারমানে একটা ওয়েবসাইট তৈরির পেছনে তিনজন কাজ করেন।

ছবি তৈরি করে দেয় একজন, আরেকজন সেই ছবি দেখে দেখে স্ট্যাটিক সাইটের রূপান্তর করে। আরেকজন হচ্ছে স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট তাকে ডায়নামিক ওয়েবসাইট এ রূপান্তর করে। একটি ওয়েবসাইট তৈরি একদম সংক্ষিপ্তভাবে আপনাদের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি। আশা করি আপনারা সবাই বুঝতে পেরেছেন। এখানে কিন্তু আমি কিন্তু কোন এইচটিএমএল, সিএসএস, জাভাস্ক্রিপ্ট, পিএইচপি ইত্যাদি কোন কিছুর কোন কথা বলি নাই।

এটা আমি আপনাকে সংক্ষিপ্ত ভাবে বুঝিয়ে দিলাম যে কিভাবে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়ে থাকে। এখন আসা যাক যে আমাদের জন্য কি কি শিখতে হবে। এ বিষয়ে আমরা আগামী পর্বে আপনাদের সাথে আলোচনা করেছি। তারপর এই পর্বে একটা কথা আপনাকে ধারণাটি দিব।

প্রথম ছবি তৈরি করা এটার জন্য মূলত এটা আসলে কোন ওয়েব ডিজাইনার বা কোন ওয়েব ডেভলপার এর কাজ নয়। ছবি তৈরি করে যারা ছবি নিয়ে কাজ করেন। পিএসডি তৈরি করা হচ্ছে সম্পূর্ণরূপে একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার। ওয়েব ডিজাইনার যিনি তিনি মূলত এই স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট তৈরি করেন।

এর জন্য সাধারণত এইচটিএমএল, সিএসএস, জাভাস্ক্রিপ্ট, জেকোয়েরি ল্যাঙ্গুয়েজ গুলো এখানে ব্যবহার হয়ে থাকে। এগুলো ব্যবহার করে মূলত একটি ওয়েবসাইট স্ট্যাটিক করা হয়ে থাকে। এরপর বিভিন্নভাবে একটা ওয়েব সাইট ডেভলপ করা হয় করা হয়। এখানে রয়েছে পিএইচপি, রয়েছে এসপি, এখানে ওয়ার্ডপ্রেস, জুমলা, ড্রাপাল, ম্যাজেন্টো ইত্যাদি।

সেখানে আরো অনেক নাম রয়েছে যেগুলোর সাথে হয়তো আপনার পরিচিত নয়। পরিচিত থাকলে হয়তো ভালো করে আপনারা জানেন না। আশা করি আপনারা সবাই বুঝতে পেরেছেন। আগামী পর্বে আমরা অত্যন্ত বিশাল ভাবে জানার চেষ্টা করব যে কোন সেক্টরের জন্য কি কাজ শিখতে হবে। আপনি কোনটা শিখলে আপনার জন্য ভাল হবে। সেই বিষয় নিয়ে আগামী পর্বের জন্য আলোচনা থাকবে। আজকের পর্ব এখানে বিদায় নিচ্ছি। ভাল থাকবেন সবাই।

Leave a Comment