মাধ্যমিক পড়াশোনা

রেইনকোট গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

অনুসন্ধান করে আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। আপনি যদি ইতিমধ্যে রেইনকোট কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ২০২২ অনুসন্ধান করে থাকেন তবে সঠিক জায়গায় এসেছেন। প্রশ্নের উত্তর গুলো পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে। আপনাদের সিলেবাস ও পাঠ্য সম্পর্কিত আরো প্রশ্নোত্তর আমাদের সাইটে খুঁজে পাবেন। চলুন শুরু করা যাক।

রেইনকোট গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ১

আমি একজন মুক্তিযােদ্ধা, মৃত্যু পিছনে আগে, ভয়াল বিশাল নখর মেলিয়া দিবস রজনী জাগে। কখনাে সে ধরে রেজাকার বেশ, কখনাে সে খান-সেনা, কখনাে সে ধরে ধর্ম লেবাস পশ্চিম হতে কেনা। কখনাে সে পশি ঢাকা-বেতারের সংরক্ষিত ঘরে ক্ষেপা কুকুরের মরণকামড় হানিছে ক্ষিপ্ত স্বরে। আমি চলিয়াছি চির-নির্ভীক অবহেলি সবকিছু। নরমুণ্ডের ঢেলা ছড়াইয়া পশ্চাত-পথ পিছু।

ক. মিসক্রিয়েন্টরা কী বেশে কলেজে ঢুকেছিল? 

খ. “প্রিন্সিপালের বাড়ির গেটে বােমা ফেলা মানে মিলিটারি ক্যাম্প অ্যাটাক করা”- এ কথা কেন বলা হয়েছে?

গ. উদ্দীপকের মুক্তিযােদ্ধার সঙ্গে ‘রেইনকোট গল্পের নুরুল হুদার সাদৃশ্য কোথায়? ব্যাখ্যা কর। 

 ঘ. “সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি ‘রেইনকোট গল্পের খণ্ডাংশমাত্র”- আলােচনা কর ।

উপরোক্ত তথ্য অনুযায়ী রেইনকোট কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর সম্পর্কিত এই আর্টিকেলে সৃজনশীল প্রশ্নগুলো কেমন হতে পারে তা আপনি দেখে নিয়েছেন। চলুন এবার তবে প্রশ্নের উত্তর সমাধান গুলোও PDF সহ দেখে নেওয়া যাক।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ১ এর উত্তর সমূহ

ক উত্তরঃ মিসক্রিয়েন্টরা কুলির বেশে কলেজে ঢুকেছিল।

খ উত্তরঃ প্রিন্সিপালের বাড়ি আর মিলিটারি ক্যাম্প পাশাপাশি হওয়ার কারণে বলা হয়েছে, প্রিন্সিপালের বাড়ির গেটে বােমা ফেলা মানে মিলিটারি ক্যাম্প আক্রমণ করা। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানি সেনারা কলেজে এসে ক্যাম্প স্থাপন করে।

মুক্তিবাহিনীর আকস্মিক আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য। তারা ক্যাম্প নিরাপদ দূরত্বে রাখে। কলেজের দেয়াল ঘেঁষেই বাগান, টেনিস লন, তারপর কলেজ দালান এবং খেলার মাঠ; মাঠ পেরিয়ে একটু বাঁ দিকে প্রিন্সিপালের কোয়ার্টার এবং তার পাশে মিলিটারি ক্যাম্প। এভাবে প্রিন্সিপালের বাড়ি এবং মিলিটারি ক্যাম্প পাশাপাশি অবস্থিত। এ জন্যই বলা হয়েছে প্রিন্সিপালের বাড়ি আক্রমণ করা মানে মিলিটারি ক্যাম্প আক্রমণ করা।

সারকথা : প্রিন্সিপালের কোয়ার্টার আর মিলিটারি ক্যাম্প পাশাপাশি অবস্থিত। তাই একটিতে আক্রমণ করা মানে অন্যটিকে আক্রমণ করা।

গ উত্তরঃ উদ্দীপকের মুক্তিযােদ্ধার সঙ্গে ‘রেইনকোট গল্পের নুরুল হুদার চলার পথের সাদৃশ্য রয়েছে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামেন। এই যুদ্ধে অনেক সাধারণ মানুষও অসাধারণ সাহসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়।

তারা ইস্পাত কঠিন মনােবল নিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে প্রতিরােধ গড়ে তােলে। উদ্দীপকের কবিতাংশে একজন মুক্তিযােদ্ধার চলার পথের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। একজন মুক্তিযােদ্ধা দেশের স্বাধীনতা রক্ষার্থে মৃত্যুকে পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যায়। যুদ্ধের কৌশল হিসেবে সে বিভিন্ন বেশ ধারণ করে।

See also  সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ২০২২

পথের সব বাধা-বিপত্তি সবকিছুকে অবহেলা করে সে নির্ভীক চিত্তে পথ চলে। রেইনকোট গল্পের নুরুল হুদা যদিও কিছুটা ভিতু প্রকৃতির ছিল, কিন্তু শ্যালক মুক্তিযােদ্ধার রেইনকোট গায়ে দেওয়ার পর বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তার মধ্যে সাহস ও দেশপ্রেম সঞ্চারিত হয়। তার চলার পথ উদ্দীপকের মুক্তিযােদ্ধার অনুরূপ।

নির্ভয়ে সাহসী পদক্ষেপে নুরুল হুদা এগিয়ে যায়। এ দিক থেকেই উদ্দীপকের মুক্তিযােদ্ধার সঙ্গে ‘রেইনকোট গল্পের নুরুল হুদার সাদৃশ্য রয়েছে।

সারকথা : উদ্দীপকে একজন মুক্তিযােদ্ধার চলার পথের বর্ণনা রয়েছে, যা রেইনকোট গল্পের নুরুল হুদার পথচলার অনুরূপ। কারণ উভয়ই তা দেশপ্রেমে বলীয়ান হয়ে নির্ভীক চিত্তে সামনে এগিয়ে চলেছে।

হুবুহু সৃজনশীল প্রশ্ন খবুই কম কমন পড়তে দেখা যায় । তাই এই পোষ্ট রেইনকোট কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর pdf এর পাশাপাশি মূল বই থেকে এ সম্পর্কিত আরও বিষয়বলী গুলো ধারণা রাখুন। এতে করে যেভাবেই প্রশ্ন আসুক যাতে আপনি উত্তর দিতে পারেন। চলুন বাকী অংশ পড়ে নেওয়া যাক।

ঘ উত্তরঃ “সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকটি ‘রেইনকোট’ গল্পের খণ্ডাংশমাত্র”- মন্তব্যটি যথার্থ। ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের বর্বর হানাদার বাহিনী এদেশে গণহত্যা চালায়। এদেশের মানুষের ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযােগ করে দেশকে এক ধ্বংসস্তুপে পরিণত করে। তাদের এই বর্বরতা মেনে না নিয়ে এদেশের সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

‘রেইনকোট’ গল্পটি মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকার পরিস্থিতি নিয়ে রচিত। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর অত্যাচারের বিরুদ্ধে ঢাকায় মুক্তিযােদ্ধারা গেরিলা আক্রমণ শুরু করে। তারা ঢাকা কলেজের সামনে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার ধ্বংস করে দেয়।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানি সেনারা কলেজের শিক্ষকদের তলব করে এবং তাদের মধ্য থেকে নুরুল হুদা ও আবদুস সাত্তার মৃধাকে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালিয়ে মুক্তিযােদ্ধাদের সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করে। অপরদিকে উদ্দীপকের কবিতাংশে একজন মুক্তিযােদ্ধার চলার পথের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়া সে মুক্তিযােদ্ধার চলার পথ অনেক সাহসী ও নির্ভীক। পথের সব বাধা-বিপত্তি অবহেলা করে সে সামনে এগিয়ে যায় । উদ্দীপকে একজন মুক্তিযােদ্ধার চলার পথের বর্ণনা রয়েছে যা রেইনকোট গল্পের নুরুল হুদার চলার পথের অনুরুপ।

মুক্তিযােদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেইনকোট গায়ে দিয়ে নুরুল হুদার মাঝে দেশপ্রেম সঞ্চারিত হয়। আলােচ্য গল্পে এ বিষয়টি ছাড়াও মুক্তিযােদ্ধাদের শেষ সময়ের ঢাকার পরিস্থিতি, মুক্তিযােদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ, পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ, ঢাকা শহরের মানুষের আতঙ্কগ্রস্ত জীবন ইত্যাদি বিষয় উঠে এসেছে। এসব বিচারে বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘রেইনকোট’ গল্পের খণ্ডাংশমাত্র।

সারকথা : উদ্দীপকে ‘রেইনকোট গল্পের সঙ্গে মিল রেখে এক মুক্তিযােদ্ধার চলার পথের বর্ণনা রয়েছে মাত্র। কিন্তু আলােচ্য গল্পে মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ের ঢাকা শহরের নানা ঘটনা বিবৃত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘রেইনকোট গল্পের খণ্ডাংশমাত্র।

প্রিয় পাঠক আপনি ইতিমধ্যে আমাদের সাইটের মাধ্যমে রেইনকোট কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ১টি পূর্ণাঙ্গ সম্পন্ন করেছেন। চলুন এ সম্পর্কিত আরও একটি দেখে নেওয়া যাক।

See also  আমার পথ প্রবন্ধের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

রেইনকোট গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ২

শুধু জানি, এ যুদ্ধে আমরা জিতব। আজ, নয় কাল। নয়তাে পরশু। | একদিন আমি আবার ফিরে যাব। আমার শহরে, আমার গ্রামে। তখন হয়তাে পরিচিত অনেকগুলাে মুখ সেখানে থাকবে না। তাদের আর | দেখতে পারব না আমি। যাদের পাব তাদের প্রাণভরে ভালােবাসব । যারা নেই, কিন্তু একদিন ছিল, তাদের গল্প আমি শােনাব ওদের । সেই ছেলেটির গল্প। বুকে মাইন বেঁধে যে ট্যাংকের সামনে ঝাপিয়ে পড়েছিল। কিংবা সেই বুড়াে কৃষক। রাইফেলটা হাতে তুলে নিয়ে যে মৃদু হেসে বলেছিল, চললাম। আর ফিরে আসেনি।

ক. এই কয়েক মাসে নুরুল হুদা কী মুখস্থ করেছেন?

খ. পিয়নকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে ইচ্ছা করেছিল কেন?

গ. উদ্দীপকটি ‘রেইনকোট গল্পের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের সেই বুড়াে কৃষকের ঘরে ফিরে না আসার বিষয়টি ‘রেইনকোট গল্পের নুরুল হুদার ঘরে ফিরে না আসার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা হলেও তাঁদের কার্যক্রমে পার্থক্য আছে।”- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।

সৃজনশীল প্রশ্ন নম্বর ২ এর উত্তর সমূহ

ক উত্তরঃ এই কয়েক মাসে নুরুল হুদা অনেক সুরা মুখস্থ করেছেন।

খ উত্তরঃ পিয়নের মুখ দর্শনে পাকিস্তানি মিলিটারির ভয় কেটে যাওয়ায় তাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে ইচ্ছা করেছিল।  দরজায় প্রবল কড়া নাড়ার শব্দে নুরুল হুদা হানাদার ঘাতক পাকিস্তানি মিলিটারির হানা দেওয়ার আতঙ্কে শিউরে উঠলেন। মুসলমান রীতি অনুসারে মনে মনে দোয়া পড়ে ভয়ে ভয়ে দরজা খুললেন। দেখলেন, দাঁড়িয়ে আছে প্রিন্সিপালের পিয়ন ইসহাক। এমন পরিস্থিতিতে নুরুল হুদার ইচ্ছে হলাে পিয়নকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে।

সারকথা : পাকিস্তানি বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে সৃষ্ট ভয় ও আতঙ্ক কেটে যাওয়ায় পিয়নকে জড়িয়ে ধরে নুরুল হুদার চুমু খেতে ইচ্ছা করেছিল ।

গ উত্তরঃ উদ্দীপকটি ‘রেইনকোট গল্পের মুক্তিযুদ্ধের বর্ণনা, মুক্তিযােদ্ধাদের সাহস ও মনােবলের সঙ্গে সম্পর্কিত।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশের সাধারণ মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচার চালায়। তাদের হাত থেকে এদেশের নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী কেউই রেহাই পায় না। দিনের পর দিন, মাসের পর মাস হায়েনারা এদেশে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়।

এদেশের স্বাধীনতাকামী জনতা দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধ করে শেষ পর্যন্ত জয়লাভ করে। উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযােদ্ধাদের মনােবল এবং জীবনের মায়া ত্যাগ করে স্বাধীনতা যুদ্ধে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ঝাপিয়ে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এ বিষয়টি ‘রেইনকোট’ গল্পের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকার পরিস্থিতি, মুক্তিযােদ্ধাদের সাহস ও মনােবলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

উদ্দীপকে একজন মুক্তিযােদ্ধা যেমন আজ, না হয় কাল, কিংবা পরশু যুদ্ধ জয়ের কথা বলেছেন, তেমনই ‘রেইনকোট’ গল্পেও ঢাকা শহরের গেরিলা যােদ্ধাদের মনােবল ও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ পেয়েছে। তারা শ্রমিকের ছদ্মবেশে ঢাকা কলেজের সামনে গেরিলা আক্রমণ করে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার ধ্বংস করে দিয়েছে।

এ গল্পে গেরিলা মুক্তিযােদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেইনকোট গায়ে দিয়ে সাধারণ ভিতু প্রকৃতির নুরুল হুদার মধ্যেও দেশপ্রেম ও সাহস সঞ্চারিত হয়েছে। এ বিষয়টি উদ্দীপকের আত্মবিশ্বাসী মুক্তিযােদ্ধার সাহস ও মনােবলের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

See also  জীবন সঙ্গীত কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর ২০২২

সারকথা : উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মদানের বিনিময়ে হলেও দেশ স্বাধীনের মনােভাব এবং দেশ স্বাধীনের পর যুদ্ধজয়ের গল্প শােনানাের অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়েছে। এখানে মুক্তিযোেদ্ধাদের যে আত্মবিশ্বাস ও সাহসের কথা বলা হয়েছে তা ‘রেইনকোট’ গল্পেও প্রতিফলিত হয়েছে।

আপনি এই পোষ্টে রেইনকোট কবিতার সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর  নিয়ে পড়তেছেন। এটি পূর্ণাঙ্গ পড়া শেষে আপনি এ সম্পর্কিত আরও পাঠ্য আমাদের সাইটে খুঁজে পেতে সার্চ বক্সে অনুসন্ধান করতে পারেন। চলুন বাকী অংশ পড়ে নেওয়া যাক।

ঘ উত্তরঃ “উদ্দীপকের সেই বুড়াে কৃষকের ঘরে ফিরে না আসার বিষয়টি ‘রেইনকোট গল্পের নুরুল হুদার ঘরে ফিরে না আসার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা হলেও তাঁদের কার্যক্রমে পার্থক্য আছে।”- মন্তব্যটি যথার্থ।

১৯৭১ সালে বর্বর পাকিস্তানি হানাদাররা অত্যাধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে এদেশের নিরস্ত্র নিরীহ মানুষের ওপর আক্রমণ চালায়। বাঙালিদের কাছে তেমন ভারী অস্ত্র না থাকায় প্রথম দিকে তারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও মারা পড়ে। ফলে তারা সম্মুখযুদ্ধের চেয়ে গেরিলা আক্রমণ করে পাকিস্তানি সেনাদের ভীতসন্ত্রস্ত ও নিশ্চিহ্ন করে দিতে তৎপর হয়।

এ পদ্ধতিতে যুদ্ধ করে অবশেষে মুক্তিযােদ্ধারা প্রভূত সাফল্য অর্জন করে। উদ্দীপকে এক মুক্তিযােদ্ধার দেশ স্বাধীন করে ঘরে ফিরে বেঁচে থাকা মানুষদের আত্মদানকারী মুক্তিযােদ্ধাদের গল্প শােনানাের কথা বলা হয়েছে। তিনি ঘরে ফিরে যাদের পাবেন তাদেরকে প্রাণভরে ভালােবাসবেন এবং যুদ্ধজয়ের গল্প শােনাবেন। সেখানে বুড়াে কৃষক কীভাবে যুদ্ধে গিয়ে আর ফিরে আসেননি সেই গল্পও থাকবে।

এ বিষয়টি ‘রেইনকোট গল্পের নুরুল হুদার ঘরে ফিরে না আসার ঘটনার সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা। কারণ তারা উভয়েই দেশপ্রেমিক। স্বদেশের স্বাধীনতার জন্যই তারা জীবন দিয়েছেন। শত্রুরা তাঁদের ঘরে ফিরতে দেয়নি। তবে তাদের কার্যক্রমে ছিল ভিন্নতা। উদ্দীপকের বৃদ্ধ কৃষক অস্ত্র হাতে সরাসরি সম্মুখযুদ্ধে অংশ নিতে চলে গেছেন।

অন্যদিকে ‘রেইনকোট’ গল্পে মুক্তিযােদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেইনকোট গায়ে দেওয়ায় নুরুল হুদার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। তিনি রীতিমতাে স্বদেশপ্রেমিক বীর যােদ্ধার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। তাঁকে মিলিটারি ক্যাম্পে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন করার পরও তিনি মিন্টু ও অন্য মুক্তিযােদ্ধাদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করেননি এবং ঘরে ফিরে আসেননি। এখানে তাদের কার্যক্রমের মধ্যে পার্থক্য দেখা যায়, যদিও পরিণতি অভিন্ন। কাজেই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সারকথা : উদ্দীপকের বুড়াে কৃষক ঘরে ফিরে আসেননি, তিনি সশরীরে মুক্তিযুদ্ধে যােগ দিয়েছেন। আর ‘রেইনকোট গল্পের নুরুল হুদা গেরিলা মুক্তিযােদ্ধা এ শ্যালক মিন্টুর রেইনকোটটি গায়ে দিয়ে পাকিস্তানি মিলিটারিদের হাতে ধরা পড়েছেন। পরিণতি অভিন্ন হলেও তাঁদের কার্যক্রমে ভিন্নতা রয়েছে ।

আশাকরি আপনার কাঙ্খিত অনুসন্ধান রেইনকোট কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর আমাদের সাইটের মাধ্যমে খুঁজে পেতে সক্ষম হয়েছেন। শিক্ষামূলক পোষ্ট পেতে নিয়মিত ভিজিট করুন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button