প্রযুক্তি তথ্য

কম্পিউটার বা ল্যাপটপ কে সুপার ফাষ্ট করার টিপস

যদি কোনো কারণে আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ অনেক স্লো হয়ে যায়। এবং আপনি যদি সেই স্লো হয়ে যাওয়া ল্যাপটপ অথবা কম্পিউটার কে অনেক বেশি ফাস্ট করতে চান। তাহলে আজকের এই আর্টিকেল টি আপনার জন্য অনেক বেশি প্রয়োজনীয়। কারণ আপনি যদি নিয়মিত একজন কম্পিউটার ব্যবহারকারী অথবা একজন ল্যাপটপ ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন। তাহলে আপনার একটি কথা বেশ ভালো করেই জানা থাকবে। আর সেটি হল এমন কিছু বিষয় রয়েছে। যে গুলো মেনে চলতে পারলে। আপনি খুব সহজেই আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ কে অনেক বেশি ফাস্ট করতে পারবেন। 

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমরা অনেকেই এই বিষয় গুলো সম্পর্কে অবগত নই। আর এই সব বিষয় গুলো কে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার জন্যই মূলত আজকের এই আর্টিকেল টি লেখা হয়েছে। তাই আপনি যদি একান্ত ভাবেই আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ কে পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি সুপার ফাস্ট করতে চান। তবে চেষ্টা করবেন আপনার পুরো আর্টিকেল টি মনোযোগ সহকারে পড়ার। তাহলে আর দেরি না করে চলুন সরাসরি মূল আলোচনা তে ফিরে যাওয়া যাক। এবং কম্পিউটার কে সুপারফাস্ট করার উপায় গুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ কে সুপার ফাস্ট করার উপায়

দেখুন আর্টিকেল এর শুরুতেই আমি একটা কথা বলেছি। আর সেই কথা টি হলো যে, কিছু বিষয় রয়েছে। যে বিষয় গুলো মেনে চলতে পারলে। একটি কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ কে অনেক বেশি ফাস্ট করা যায়। আর এবার আমি আপনার সাথে সেই উপায় গুলো শেয়ার করার চেষ্টা করব। এবং আপনি অবশ্যই আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ কে ফাস্ট করার জন্য। এই ধরনের উপায় গুলো কে মেনে চলার চেষ্টা করবেন। যদি আপনার সঠিক ভাবে এই উপায় গুলো কে মেনে চলতে পারেন। তাহলে আমার দীর্ঘ বিশ্বাস রয়েছে যে। আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি ফাস্ট হয়ে যাবে। যেমন:

See also  ক্রোম ব্রাউজার এর দরকারি কিছু এক্সটেনসন সর্ম্পকে জেনে নিন

Performance Setting করুন

যদি আপনার নিকট একটি কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ থাকে। তাহলে আপনি অবশ্যই জেনে থাকবেন যে। সেই ডিভাইসের মধ্যে Performance Setting নামের একটি অপশন রয়েছে। যদি আপনি এই অপশন টি খুজে না পান। তাহলে আমি আপনাকে খুব সহজ একটা উপায় বলে দিচ্ছি। সেজন্য প্রথমে আপনাকে Control Panel এ যেতে হবে। এরপর আপনি System & Security নামের  আরো একটি অপশন দেখতে পারবেন। আপনাকে সে অপশনে ক্লিক করতে হবে। তো যখন আপনি উপরোক্ত অপশনে ক্লিক করবেন। তখন আপনি System দেখতে পারবেন। আপনাকে সেখানে ক্লিক করতে হবে। 

সবশেষে আপনি Advanced System Setting দেখতে পারবেন। তো যখন আপনি এখানে ক্লিক করবেন। তখন আপনি সরাসরি Performance Setting এ প্রবেশ করতে পারবেন। আর যখন আপনি এই অংশে প্রবেশ করবেন। তখন আপনাকে Adjust for best performance এ সিলেক্ট করার পরে Apply তে ক্লিক করতে হবে। তো এভাবেই আপনি আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপের Performance Setting করতে পারবেন। যার ফলে আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ ফাস্ট হওয়ার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

C Drive খালি রাখার চেষ্টা করুন

দেখুন আপনি কম্পিউটার ব্যবহার করেন অথবা ল্যাপটপ ব্যবহার করেন সেটা বড় কথা নয়। সবচেয়ে বড় কথা হল, এই ধরনের ডিভাইস গুলো কে সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য। বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম সেটাপ করা থাকে। যে গুলো কে আমরা সংক্ষিপ্ত ভাষায় System Files এবং Program Files বলা হয়। তো এই ধরনের বিভিন্ন ফাইল গুলো কিন্তু আমাদের ব্যবহার করা কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ এর C Drive এর মধ্যে জমা থাকে। আর সে কারণেই এই ড্রাইভ যখন ফুল হয়ে যায়, তখন কিন্তু আমাদের ব্যবহার করার ডিভাইস গুলো অনেক বেশি স্লো হয়ে যায়।

See also  Local SEO কি? কিভাবে লোকাল SEO করবেন

তো আমাদের মধ্যে এমন অনেক মানুষ আছেন। যারা মূলত তাদের C Drive এর মধ্যে অন্যান্য ব্যক্তিগত ফাইল গুলো কে জমা করে রাখে। আর যখন এই ড্রাইভের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের ফাইল জমা হয়। তখন উক্ত ড্রাইভের স্পেস অনেক কমে যায়। আর আপনি এই ভুল টি কখনোই করবেন না। বরং আপনি আপনার এই C Drive কে সর্বদাই খালি রাখার চেষ্টা করবেন। যাতে করে আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপে ব্যবহার করা প্রোগ্রাম ফাইল এবং সিস্টেম ফাইল গুলো সঠিক ভাবে কাজ করতে পারে।

Cleanup এর ব্যবহার করুন

যখন আপনি একটি কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করবেন। তখন সেই ডিভাইস এর মধ্যে অনেক অপ্রয়োজনীয় ফাইল জমা হবে। আর আপনি যদি সেই অপ্রয়োজনীয় ফাইল গুলো কে দীর্ঘদিন ধরে এভাবে জমা করে রাখেন। তাহলে একটা সময় এই ফাইল গুলো আপনার সিস্টেম কে অনেক বেশি স্লো করে দিবে। আর সেজন্যই মূলত আমাদের সবার উচিত যে, আমাদের ডিভাইস থেকে। এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় ফাইলগুলো কে রিমুভ করে দেওয়া। তাই যখন আপনি দেখতে পারবেন যে, আপনার কম্পিউটারে এই ধরনের ফাইল গুলোর সংখ্যা অতিরিক্ত পরিমাণে বেড়ে গেছে। তখন আপনাকে সে গুলো কে Cleanup করতে হবে।

Recycle folder খালি রাখুন

যখন আপনি আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ থেকে কোন ফাইল কে ডিলিট করে ফেলবেন। তখন সেগুলো সরাসরি আপনার সেই ডিভাইস থেকে একেবারেই হারিয়ে যায় না। বরং আপনার সেই ডিলিট করে দেওয়া ফাইল গুলো সর্বপ্রথম Recycle bin নামক একটি ফোল্ডারে গিয়ে জমা হয়ে থাকে। এবং পরবর্তী সময়ে আপনি চাইলে সেই ফোল্ডার থেকে আপনার ডিলিট করে দেওয়া ফাইল গুলো কে পুনরায় ফেরত নিয়ে আসতে পারবেন। 

কিন্তু আপনি যখন অতিরিক্ত পরিমাণে ফাইল ডিলিট করবেন। এবং যখন অতিরিক্ত পরিমাণে ফাইল এই Recycle bin নামক ফোল্ডারে গিয়ে জমা হবে। তখন কিন্তু আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ অনেক বেশি স্লো হয়ে যাবে। তাই অবশ্যই আপনি এই ফোল্ডার এর ভেতরে থাকা থাকা ফাইল গুলো কে রিমুভ করে দিবেন। এতে করে আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ অনেক বেশি ফাস্ট হয়ে যাবে।

See also  কম্পিউটারের জন্য লাইভ স্ট্রিমিং করার সফটওয়্যার

Start-Up Program কমিয়ে আনুন

মূলত যখন আপনি আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ কে অন করবেন। তখন অটোমেটিক ভাবে যেসব সফটওয়্যার চালু হয়ে যায়। সে গুলো কে বলা হয়ে থাকে Start-Up Program. আর আপনি আপনার ডিভাইসের মধ্যে এই ধরনের যত বেশি প্রোগ্রাম কে চালু করে রাখবেন। আপনার কম্পিউটারের উপর ঠিক তত বেশি চাপ পড়বে। কেননা এ গুলো কে চালু করার জন্য আপনাকে কোন কিছু করতে হবে না। বরং আপনার ডিভাইস চালু হওয়ার সাথে সাথেই ব্যাকগ্রাউন্ড এর মধ্যে উক্ত প্রোগ্রাম গুলো অটোমেটিক ভাবে রান হয়ে যাবে। 

যার ফলে এই ধরনের প্রোগ্রামের সংখ্যা যখন অনেক বেশি হয়ে যায়। তখন কিন্তু আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ ক্রমাগত ভাবে স্লো হতে থাকে। তাই আপনি যদি আপনার কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ কে সুপারফাস্ট করতে চান। তাহলে অবশ্যই আপনাকে এই ধরনের Start-Up Program এর সংখ্যা কে কমিয়ে আনতে হবে। যাতে করে আপনার ডিভাইসের উপর চাপ অনেকটাই কম থাকে।

Windows update রাখুন

দেখুন আপনি কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ এর মধ্যে অবশ্যই কোন না কোন অপারেটিং সিস্টেমকে ব্যবহার করে থাকবেন। মূলত এই অপারেটিং সিস্টেম এর মাধ্যমে একটি কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ কে সঠিক ভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়। তো বর্তমান সময়ে আমাদের মধ্যে প্রায় অধিকাংশ মানুষ এই অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে Windows ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু আমরা অনেকেই এই অপারেটিং সিস্টেম কে নিয়মিত আপডেট করে রাখি না। 

যার কারণে এই ধরনের অপারেটিং সিস্টেম গুলো তাদের প্রোগ্রাম গুলো কে সঠিক ভাবে কাজ করাতে পারে না। আর সে কারণে মূলত আমাদের প্রত্যেকের উচিত এই অপারেটিং সিস্টেম গুলো কে সর্বদাই আপডেট রাখা। যাতে করে আমাদের কম্পিউটার অথবা ল্যাপটপ এর মধ্যে থাকা প্রোগ্রাম গুলো কে সঠিক ভাবে কাজ করতে সহায়তা করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button